জ্ঞান আহরণের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে বই পড়া। তবে অনেকেই মনে করে বই কিনলে দেউলিয়া হয়ে যায়। এটি ভুল কথা। জ্ঞান আহরণে সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হচ্ছে বই। যেখানে আপনি সকল ধরনের তথ্য ও জ্ঞান লাভ করতে পারবেন।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা আপনারা নিশ্চয়ই বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না এ সম্পর্কে জানতে পোস্টটিতে এসেছেন। আজকের পোস্টটিতে আমরা আপনাদের জন্য বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না ভাবসম্প্রসারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করব। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকুন।
বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না ভাব সম্প্রসারণ টি সম্পর্কে জানতে আজকের পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন। তাহলে বুঝতে পারবেন বইয়ের মূল্য কতটা।
বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না
ভাব-সম্প্রসারণঃ জ্ঞান আহরণ করার আশা নিয়ে মানুষ বই কেনে। আর এই বই কেনার জন্য যে অর্থ ব্যয় হয়, অর্জিত জ্ঞানের তুলনায় তা খুব নগণ্য।বই মানুষের জ্ঞানচক্ষু খুলে দিয়ে মনের জগতকে প্রসারিত করে।
বিশ শতকের সূচনায় মুসলিম সাহিত্য সমাজের দার্শনিকগণ বলেছিলেন, ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।
তাঁদের ধারণা অনুযায়ী জ্ঞানের সীমানা বাড়াতে, বুদ্ধিকে বন্ধনহীন করতে, আর মানুষের মুক্তি আনতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। সব মানুষই খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, চিকিৎসা ইত্যাদি মৌলিক প্রয়োজনে অর্থ ব্যয় করে।
মৌলিক চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করার আরো অনেক উপায় আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো উপায়- বই কেনা। বই কিনে কেউ নিঃস্ব হয় না। কারণ, একটা বইয়ের অর্থমূল্য বেশি নয়।
বরং একটি বই কিনতে যে অর্থের প্রয়োজন হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ অনেকে অন্যান্য কাজে ব্যয় করে থাকে। ব্যক্তিকে আলোকিত করতে একটি বই যেভাবে ভূমিকা রাখে, তাতে বই কেনার ব্যাপারে কার্পণ্য করা বোকামি।
একটা বই অনেক সময়ে মানুষের জীবনকে পর্যন্ত বদলে দিতে পারে।বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। তাই নিজেকে সমৃদ্ধ করতে বই কেনার ও তা পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
আরেকটি বই থেকে সংগ্রহ করে ভাব সম্প্রসারণটি দেওয়া হলো:
বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না
“বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না” এই বাক্যটি শোনার সময় অনেকেই হয়তো হাসি পেতে পারে বা অবাক হতে পারে।
কেননা আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা মনে করেন বই কিনতে অর্থ ব্যয় করা মানে অর্থ খরচ। কিন্তু বাস্তবে, বই কেনা কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং এটি একটি বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগের ফলাফল হয় আমাদের মনের সমৃদ্ধি, জ্ঞান, এবং ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি।
বই কেবলমাত্র শব্দের সমাহার নয়; এটি আমাদের জীবনের দিকনির্দেশক, অনুপ্রেরণার উৎস এবং চিন্তার খোরাক। আমরা যে বইটি কিনি, তা হয়তো আমাদের নতুন দক্ষতা শিখাতে সাহায্য করবে, জীবনের জটিল সমস্যার সমাধান দেখাবে, অথবা আমাদের মানসিক শান্তি দেবে।
উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষার্থী যে বই কিনে নিজের জ্ঞান বাড়াচ্ছে, সে আগামীতে ভালো ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি করতে পারবে।
একজন উদ্যোক্তা যদি ব্যবসা সম্পর্কিত বই পড়ে নতুন ধারণা পায়, তা তার ব্যবসাকে সফল করার পথ সুগম করবে। অর্থাৎ, বইয়ের মাধ্যমে আমরা অর্থনৈতিক বা সামাজিক দিক থেকে লাভবান হই।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বই আমাদের কল্পনাশক্তি এবং সৃজনশীলতাকে প্রসারিত করে। একটি গল্পের বই, একটি আত্মজীবনী, বা প্রবন্ধের সংগ্রহ সবই আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ায়। যখন আমরা বই পড়ি, আমরা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনধারা সম্পর্কে জানি।
এতে আমাদের মানসিক ও বৌদ্ধিক দিক শক্তিশালী হয়। ফলে, বই কেনার খরচকে আমরা কেবল আর্থিক দৃষ্টিতে নয়, মানসিক ও জ্ঞানগত বিনিয়োগ হিসাবেও দেখতে পারি।
তাছাড়া, বই মানুষের মনের দারিদ্র্য কাটাতে পারে। মানুষের জীবনযাত্রা যতই ব্যস্ত বা চাপপূর্ণ হোক না কেন, বই পড়া মানসিক সমৃদ্ধি এনে দেয়।
আমাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সাফল্য এবং ব্যর্থতা বোঝার জন্য বইই সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর মাধ্যম। তাই বলা যায়, বই কিনলে কেউ দেউলিয়া হয় না; বরং একজন জ্ঞানী, চিন্তাশীল এবং সফল মানুষ হয়ে ওঠার পথে প্রথম পদক্ষেপ নেয়।
সারসংক্ষেপে, বই কেনা অর্থনৈতিক দিক থেকে ক্ষতি নয়। এটি আমাদের মনের, বুদ্ধির, এবং আত্মার সমৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। তাই “বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না”এই বাক্যটি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি জীবনের বাস্তব সত্যকেও প্রতিফলিত করে।
অবশ্যই পড়ুন:
আমি নোমান, একজন অনলাইন ইনকাম এক্সপার্ট ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ২০২১ সাল থেকে অনলাইন আয়ের বিভিন্ন মাধ্যম নিয়ে গবেষণা করছি এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এই ওয়েবসাইটে নিয়মিত তথ্যবহুল অনলাইন ইনকামের বিষয় নিয়ে আর্টিকেল প্রকাশ করি। পাশাপাশি তথ্যবহুল দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি






