বর্তমান সময়ে এপস তৈরি করে ইনকাম করা অনলাইন আয়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি। আগে যেখানে অ্যাপ তৈরি করতে প্রোগ্রামিং জানা বাধ্যতামূলক ছিল,
এখন AI এবং No-Code App Builder-এর কারণে যে কেউ সহজেই মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারেন। সঠিক পরিকল্পনা, ভালো আইডিয়া এবং কার্যকর মনিটাইজেশন কৌশল ব্যবহার করলে একটি অ্যাপ থেকেই মাসে হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
এই আর্টিকেলে আমরা জানবো এপস তৈরি করে কীভাবে আয় করা যায়, কী ধরনের অ্যাপ বেশি জনপ্রিয়, কীভাবে অ্যাপ প্রকাশ করবেন এবং কোন কোন উপায়ে নিয়মিত ইনকাম করতে পারবেন।
এপস তৈরি করে ইনকাম কি?
এপস তৈরি করে ইনকাম বলতে এমন একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করাকে বোঝায়, যা ব্যবহারকারীদের কোনো সমস্যা সমাধান করে বা বিনোদন দেয়।
এরপর সেই অ্যাপ থেকে বিজ্ঞাপন, সাবস্ক্রিপশন, অ্যাপ বিক্রি, ইন-অ্যাপ পার্চেজ কিংবা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয় করা হয়।
বর্তমানে Android এবং iPhone উভয় প্ল্যাটফর্মেই অ্যাপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই একটি ভালো অ্যাপ দীর্ঘদিন ধরে প্যাসিভ ইনকামের উৎস হতে পারে।
তাই আপনাদের মধ্যে যাদের প্রোগ্রামিং করার বা কোডিং করার দক্ষতা রয়েছে, তারাই বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস তৈরি করে অনলাইন থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে উপার্জন করতে পারবেন।
ভালো ধরনের অ্যাপস তৈরি করলে দীর্ঘমেয়াদি আয় করা সম্ভব। এর জন্য আপনাকে আইডিয়া খুঁজে বের করতে হবে, আর সামান্য কিছু দক্ষতা থাকলেই বিভিন্ন AI প্ল্যাটফর্ম এর সাহায্য নিয়ে খুব সহজে অ্যাপস তৈরি করতে পারেন। চলুন এবার বিস্তারিত জানা জাক।
কেন অ্যাপ তৈরি করবেন?
নিজস্ব অ্যাপ তৈরি করার অনেক সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে বিভিন্ন মাধ্যমে অনলাইন ইনকামের সুজোগ তৈরি করতে পারবেন। যেমনঃ
- দীর্ঘমেয়াদে প্যাসিভ ইনকাম করা যায়।
- একবার তৈরি করলে বহু বছর ব্যবহার করা যায়।
- বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারী পাওয়া সম্ভব।
- নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করা যায়।
- বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন থেকে নিয়মিত আয় হয়।
- ব্যবসার জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
উপরোক্ত সুবিধা গুলো ছাড়াও আরো অনেক ধরনের সুবিধা পাবেন। মূল কথা আপনি এই উপায়ে অনলাইন ইনকাম করতে পারবেন।
এপস তৈরি করে ইনকাম করার জনপ্রিয় উপায়
অ্যাপস তৈরি করে বিভিন্ন উপায়ে আয় করতে পারবেন, বিশেষ করে যাদের কোডিং করার দক্ষতা আছে। তারা এই উপায়ে সহজেই আয় করে ফেলতে পারবেন।
শুধুমাত্র আপনাদের নির্দিষ্ট কোন AI প্লাটফর্ম এর সাহায্য নিতে হবে। বর্তমানে অনেক AI প্ল্যাটফর্ম রয়েছে , যেখানে শুধুমাত্র ইনস্ট্রাকশন দিলেই অ্যাপ তৈরি হয়ে যায়।
পাশাপাশি আপনার কিছু দক্ষতা থাকলে ভালোভাবে অ্যাপটি ডিজাইন করতে পারবেন এবং গুগল প্লে স্টোর সহ বিভিন্ন জায়গায় পাবলিশ করে আয় করতে পারবেন।
অবশ্যই পড়ুনঃ টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করার ১২টি প্রমাণিত উপায় (২০২৬ গাইড)
অ্যাপস থেকে দীর্ঘদিন ধরে আয় করা যায়। কারণ আপনার অ্যাপস থেকে যদি মানুষ উপকৃত হয়, তাহলে দিনে দিনে অ্যাপে ব্যবহারকারী সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
অবশ্যই পড়ুনঃ ২০২৬ সালে Google AI দিয়ে অনলাইন আয় করার ৫টি বাস্তব উপায়
আর আপনার অ্যাপ থেকে ইনকামের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এভাবেই অ্যাপস তৈরি করে সহজে অনলাইন থেকে আয় করা সম্ভব।
তবে কোন কোন উপায়ে ইনকাম করা যায় সেগুলো সম্পর্কে আপনাদের জানতে হবে। চলুন নিম্নে সেরা কয়েকটি উপায় দেখে আসি, যার মাধ্যমে অ্যাপ থেকে ইনকাম করা সম্ভব।
১. Google AdMob বিজ্ঞাপন
এটি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় আয়ের মাধ্যম।আপনার অ্যাপে Google AdMob যুক্ত করলে ব্যবহারকারীরা বিজ্ঞাপন দেখবে এবং সেই বিজ্ঞাপন থেকে আয় হবে।
মূলত আপনি অ্যাপ পাবলিশ করবেন এবং সেখানে গুগলের Google AdMob প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপন সেট করতে পারবেন। আর বিজ্ঞাপন সেট আপ করলেই ভিজিটর আসলে ইনকাম হয়।
তবে আপনাকে Google AdMob অনুমদন নিতে হলে সঠিক ভাবে অ্যাপটি তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি অ্যাপে প্রচুর ভিজিটর আসতে হবে।এই প্ল্যাটফর্মটি অ্যাপটিতে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখায়। যেমনঃ
- Banner Ads
- Interstitial Ads
- Rewarded Ads
- Native Ads
- App Open Ads
যত বেশি অ্যাকটিভ ব্যবহারকারী থাকবে, তত বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে অ্যাপটি এমনভাবে তৈরি করবেন যেন মানুষের উপকারে আসে।
এতে করে ডেইলি অ্যাপটি ডাউনলোডের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। সর্বশেষে বলব ইউজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই অ্যাপ থেকে ইনকামের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
এজন্য মানুষের কাজে আসে এমন টাইপের অ্যাপ তৈরি করুন। প্রয়োজনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নিন। গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে অ্যাপ তৈরি করার চেষ্টা করবেন।
আর যাদের মূলত কোডিংয়ে দক্ষতা আছে এবং অ্যাপ তৈরি করতে জানেন, তারাই এই উপায়ে অ্যাপ তৈরি করে মনিটাজেশন নিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।
২. ইন-অ্যাপ পার্চেজ
অনেক অ্যাপ ফ্রি হলেও অতিরিক্ত সুবিধা ব্যবহার করতে অর্থ প্রদান করতে হয়। আর এই মাধ্যমে আপনি ইনকাম শুরু করতে পারেন।
আপনার অ্যাপটিতে কোন প্রিমিয়াম ফিচার থাকলে, সেটি অ্যাক্সেস করার জন্য ইন-অ্যাপ পার্চেজ সিস্টেম চালু করুন।
এতে করে ব্যবহারকারীরা আপনার অ্যাপটিতে প্রিমিয়াম ফিচার গুলো ব্যবহার করার জন্য পেইড ভার্সন ক্রয় করবে। যার ফলে আপনি এখান থেকে আয় করতে পারবেন।
তবে অবশ্যই প্রিমিয়াম ফিচারগুলো আকর্ষণীয় হতে হবে। সাধারণত গেমিং অ্যাপ গুলোতে মানুষজন প্রিমিয়াম ফিচার বেশি ক্রয় করে থাকে।
পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের টেমপ্লেট ও ওয়েবসাইটের প্রিমিয়াম থিম বিক্রি হয়। এক্ষেত্রে আপনি অ্যাপটিতে ইন-অ্যাপ পার্চেজ অপশনটা চালু করতে পারেন। বিশেষ কোন প্রিমিয়াম ফাংশন থাকলেই এই ফিচারটি চালু করা যায় যেমনঃ
- Premium Theme
- Extra Feature
- Coins
- Diamonds
- Remove Ads
- Game Items
গেমিং অ্যাপগুলোতে এই পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে গেমিং অ্যাপে কয়েন ও ডাইমন্ড কেনার জন্য ইন-অ্যাপ পার্চেজ অপশনটি রাখা হয়।
যার ফলে যিনি অ্যাপ তৈরি করেছেন, তিনি এই মাধ্যমেই আনলিমিটেড ইনকাম করতে পারেন। যদি অ্যাপটি ও গেমটি বেশি জনপ্রিয় হয়ে যায়। তাহলে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতি মাসে আয় করা সম্ভব। এভাবেই এপস তৈরি করে ইনকাম করতে পারেন।
৩. সাবস্ক্রিপশন মডেল
বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক পদ্ধতিগুলোর একটি হলো মাসিক বা বাৎসরিক সাবস্ক্রিপশন। এখানে আপনি অ্যাপটিতে এমন কিছু প্রিমিয়াম ফিচার ও ফাংশন যোগ করুন,
যেগুলো মানুষ সাবস্ক্রিপশন প্যাক হিসেবে অ্যাপ থেকে কিনে নেয়। বিভিন্ন টাইপের অ্যাপ রয়েছে, যেগুলোতে সাধারণত সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম থেকে ভালো পরিমান আয় করা যায়। অ্যাপস গুলো হলঃ
- Fitness App
- Learning App
- Meditation App
- AI Tool
- Photo Editor
উপরোক্ত টাইপের অ্যাপ গুলো থেকে সাবস্ক্রিপশন পদ্ধতিতে ইনকাম করা যায়। অ্যাপ গুলোতে অবশ্যই প্রিমিয়াম ফিচারগুলো যোগ করতে হবে।
যাতে করে গ্রাহকরা প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন প্যাক ক্রয় করে। তাহলে বুঝতেই পারছেন সাবস্ক্রিপশন পদ্ধতিতে এপস তৈরি করে ইনকাম করা যায়।
৪. অ্যাপ বিক্রি করা
আপনি একটি জনপ্রিয় অ্যাপ তৈরি করে সেটি অন্য কোম্পানি বা ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতে পারেন।অনেক ডেভেলপার শুধুমাত্র অ্যাপ তৈরি করেই লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করেন।
তবে আপনি চাইলে বিভিন্ন কোম্পানির হয়ে অ্যাপ তৈরীর কাজ করতে পারেন। অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি অ্যাপ তৈরির জন্য প্রোগ্রামার নিয়োগ দিয়ে থাকে।
আপনার যদি এই বিষয়ে দক্ষতা থাকে, তাহলে অ্যাপ তৈরীর এই জবটি করতে পারেন। মাসিক ভিত্তিক স্যালারি পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনি প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি স্যালারি পেতে পারেন।
পাশাপাশি আপনি চাইলে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস অ্যাপস তৈরির সার্ভিস দিয়ে আয় শুরু করতে পারেন। এটি আপনার পার্ট টাইম ইনকামের সুযোগ হতে পারে। কারণ আপনি চাকরির পাশাপাশি কিছু সময় ব্যয় করে এক্সট্রা ভাবে ইনকাম করতে পারছেন।
তবে ফুল টাইম হিসেবে নিতে পারেন। যাদের ভালো কোডিং ও প্রোগ্রামিং করার দক্ষতা রয়েছে, তারা খুব সহজে বিভিন্ন টাইপের ডিজাইনের অ্যাপ তৈরি করতে পারবে।
অ্যাপ তৈরি করতে জানলে, আপনি অ্যাপটি বানিয়ে রেগুলার বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রয় করতে পারবেন। পাশাপাশি অ্যাপ তৈরির অর্ডার নিতে পারবেন।
অ্যাপ তৈরি করতে খুব বেশি খরচ হয় না, সামান্য কিছু টাকা খরচ করে অ্যাপ তৈরি করে সেটি আপনি বিভিন্ন কোম্পানির কাছে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি পর্যন্ত করতে পারবেন।
৫. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
এপস তৈরি করে ইনকাম করার আরেকটি সেরা উপায় হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। কারণ অ্যাপস তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট এর এফিলিয়েট লিংক যুক্ত করতে পারেন।
এতে করে আপনার অ্যাপে যতজন ভিজিটর আসবে, তারা সেই এফিলিয়েট লিংকটি দেখবে এবং সেখানে ক্লিক করে প্রোডাক্ট ক্রয় করতে পারে।
যার ফলে আপনি কোম্পানির কাছ থেকে ভালো পরিমাণ কমিশন নিতে পারবেন। এভাবে প্রোডাক্ট এর প্রচুর সেল আনা যায়। আপনি বিভিন্ন টাইপের প্রোডাক্ট বা সেবার ব্যানার, লিংক যুক্ত করতে পারেন। উদাহরণস্বরপঃ
- Hosting
- Domain
- VPN
- Online Course
- Software
- Shopping
৬. স্পন্সরশিপ
যদি আপনার অ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা অনেক বেশি হয়, তাহলে বিভিন্ন কোম্পানি আপনার অ্যাপে তাদের ব্র্যান্ড প্রচারের জন্য অর্থ প্রদান করবে।
এভাবে আপনি অ্যাপস তৈরি করে এই উপায়ে আয় করতে পারবেন। এখানে আপনি বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট স্পন্সর করে দিতে পারবেন।
যদি আপনার অ্যাপে নিয়মিত প্রচুর ভিজিটর আসে তাহলে এই পদ্ধতিতে আয় করতে পারবেন। এজন্য আপনাকে আকর্ষণীয় এবং মানুষের উপকারে আসে এমন টাইপের অ্যাপ তৈরি করতে হবে। যাতে গ্রাহকরা এই অ্যাপটি বেশি ব্যবহার করে এবং বেশি বেশি ভিজিটর আসে।
৭. নিজস্ব সার্ভিস বিক্রি
যদি আপনি কোনো ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাহলে অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার ব্যবসা সম্পর্কিত অ্যাপস তৈরি করবেন।
ব্যবসার নামের সাথে মিল রেখে অ্যাপটির নাম রাখবেন। এতে করে ব্যবসার পরিচিতি বাড়ানো যায়। পাশাপাশি নিজস্ব সার্ভিস বা ব্যবসা অনলাইন এর মাধ্যমেই চালু রাখতে পারবেন।
বিশেষ করে অ্যাপসের মাধ্যমে অর্ডার নেওয়া ও প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারবেন। এভাবে অ্যাপস তৈরি করে ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে।
এখন অনেকে প্রশ্ন করেন কি কি সার্ভিস বিক্রি করা যায়। আপনার দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন টাইপের সার্ভিস অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন যেমনঃ
- Graphic Design
- SEO Service
- Digital Marketing
- Web Development
- Online Consultation
কী ধরনের অ্যাপ থেকে বেশি আয় করা যায়?
বর্তমানে অনেক ধরনের অ্যাপস রয়েছে যেগুলো চাহিদা বর্তমানে খুব বেশি। সেই অ্যাপ গুলো যদি আপনি তৈরি করেন, তাহলে বিভিন্ন মাধ্যমে অনলাইন সহ অফলাইনে আয় করতে পারবেন। নিম্নে কোন টাইপের অ্যাপ থেকে বেশি আয় হয় তার তালিকা দেওয়া হলঃ
AI Apps: বর্তমান আধুনিক যুগে AI অ্যাপের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। তাই যদি আপনি AI টাইপের অ্যাপ গুলো তৈরি করতে পারেন, তাহলে দীর্ঘদিন অনলাইনে আয় করতে পারবেন।
কারণ এই টাইপের অ্যাপ গুলো অনেক বেশি বিক্রি হয় এবং ব্যবহার হয়। সকলেই কমবেশি প্রিমিয়াম ফিচারগুলো ব্যবহারের জন্য সাবস্ক্রিপশন প্যাক কিনে থাকে।
শিক্ষা বিষয়ক অ্যাপঃ
- ইংরেজি শেখা
- কুইজ
- চাকরির প্রস্তুতি
- গণিত শেখা
উপরোক্ত অ্যাপগুলোর প্রচুর চাহিদা আছে।
ফাইন্যান্স অ্যাপঃ
- Expense Tracker
- EMI Calculator
- Currency Converter
ইসলামিক অ্যাপঃ
- নামাজের সময়
- কুরআন
- দোয়া
- তাসবিহ
ইউটিলিটি অ্যাপঃ
- QR Scanner
- PDF Scanner
- File Manager
- Calculator
ফটো এডিটরঃ ছবি এডিট করার অ্যাপের ব্যবহারকারী সবসময় বেশি থাকে। তাই এই অ্যাপটি তৈরি করলেও প্রচুর গ্রাহক পাবেন এবং সেখান থেকে আপনার অনেক ইনকাম জেনারেট হবে।
ভিডিও এডিটরঃ Short Video Creator এবং Content Creator-দের জন্য এসব অ্যাপের চাহিদা অনেক।
গেমিং অ্যাপঃ মোবাইল গেম এখনও সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া ক্যাটাগরির একটি। তাই এই ক্যাটাগরির অ্যাপ নিয়েও আপনি কাজ করতে পারেন।
কোডিং ছাড়াই অ্যাপ তৈরি করা যায়?
অবশ্যই যায়।বর্তমানে অনেক No-Code প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। যে প্ল্যাটফর্ম গুলো ব্যবহার করে আপনি সরাসরি ইন্সট্রাকশন দিয়েই অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে হয়তো আপনাকে কোডিং করতে হবে না, কোডিং ছাড়াই অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন। পাশাপাশি আপনি গুগলের জেমিনি অ্যাপ ব্যবহার করে অ্যাপ তৈরীর কোডিং করে নিতে পারবেন। কয়েকটি প্লাটফর্ম সম্পর্কে জানা হলো, যেগুলো ব্যবহার করে অ্যাপ তৈরি করা যায়।
- Glide
- Adalo
- claude ai
- Appy Pie
- Thunkable
- Kodular
- FlutterFlow
এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সহজেই Android ও iOS অ্যাপ তৈরি করা যায়।
AI দিয়ে অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব?
হ্যাঁ অবশ্যই, এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই এখন অ্যাপস তৈরি করা সম্ভব। বর্তমানে AI বিভিন্ন কাজ সহজ করে দিয়েছে। যেমনঃ
- কোড লেখা
- UI Design
- Bug Fix
- Content তৈরি
- Icon তৈরি
- Screenshot তৈরি
AI ব্যবহার করলে অ্যাপ তৈরির সময় অনেক কমে যায়।
অ্যাপ প্রকাশ করার নিয়ম
অ্যাপ তৈরি করার পরে সেটি প্রকাশ করতে হয়। আর অ্যাপস বিভিন্ন প্লাটফর্মে পাবলিশ করলেই, সেখান থেকে ইনকাম হয়। বর্তমানে অ্যাপ প্রকাশ করার জনপ্রিয় দুটি প্লাটফর্ম হলঃ
অ্যাপ প্রকাশের আগে অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করুন।
- Privacy Policy
- App Icon
- Feature Graphic
- Screenshot
- App Description
- Target Audience
- নিরাপদ ও মানসম্মত কোড
এপস তৈরি করে ইনকামের সুবিধা
- দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সুযোগ
- বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারী পাওয়া যায়
- বিভিন্ন উপায়ে মনিটাইজেশন করা যায়
- নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করা সম্ভব
- ব্যবসা পরিচিতি বাড়াতে পারবেন
- ভবিষ্যতে অ্যাপ বিক্রি করেও বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া যেতে পারে
নতুনদের জন্য পরামর্শ
আপনি যদি নতুন হন, তাহলে প্রথমেই জটিল অ্যাপ তৈরির চেষ্টা না করে ছোট একটি ইউটিলিটি অ্যাপ বা শিক্ষা বিষয়ক অ্যাপ তৈরি করুন।
ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া বুঝে ধীরে ধীরে নতুন ফিচার যোগ করুন। একই সঙ্গে ASO, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার দিকে নজর দিন। এতে আপনার অ্যাপের ডাউনলোড ও আয়ের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
উপসংহার
বর্তমান ডিজিটাল যুগে এপস তৈরি করে ইনকাম করা একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার ও ব্যবসায়িক সুযোগ। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে এখন আর শুধুমাত্র অভিজ্ঞ প্রোগ্রামাররাই অ্যাপ তৈরি করতে পারেন। পাশাপাশি AI এবং No-Code প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে নতুনরাও সহজেই শুরু করতে পারবেন।
সঠিক পরিকল্পনা, মানসম্মত অ্যাপ, কার্যকর ASO এবং ধারাবাহিক আপডেটের মাধ্যমে একটি অ্যাপ দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
তাই যদি আপনি অনলাইনে স্থায়ী আয়ের একটি পথ খুঁজে থাকেন, তাহলে আজই একটি কার্যকর অ্যাপ আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।
ইতিমধ্যেই আমি আর্টিকেলে অনেকগুলো অ্যাপস তৈরির আইডিয়া শেয়ার করেছে, সেগুলো আপনি ভেবে দেখতে পারেন।
আমি নোমান, একজন অনলাইন ইনকাম এক্সপার্ট ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ২০২১ সাল থেকে অনলাইন আয়ের বিভিন্ন মাধ্যম নিয়ে গবেষণা করছি এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এই ওয়েবসাইটে নিয়মিত তথ্যবহুল অনলাইন ইনকামের বিষয় নিয়ে আর্টিকেল প্রকাশ করি। পাশাপাশি তথ্যবহুল দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি






